ছবি: সংগৃহীত
ঈদের ছুটিতে ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছে মানুষ। চিরচেনা ব্যস্ত শহর এখন অনেকটাই ফাঁকা, কমেছে যানজট আর কোলাহল। ফাঁকা এই শহরে তাই ঈদের ছুটিতে স্বাচ্ছন্দ্যে ঘোরাঘুরির সুযোগ তৈরি হয়েছে।
যারা ঢাকাতেই থাকছেন, তাদের জন্য এই সময়টা হতে পারে ভিন্ন এক অভিজ্ঞতার—নিরিবিলি পরিবেশে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো ও শহরের দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখার দারুণ সুযোগ। তাই চাইলে ঈদের ছুটিতে ঢাকায় থেকেই ঘুরে আসতে পারেন কয়েকটি আকর্ষণীয় স্থানে।
চলুন জেনে নেয়া যাক এমন ৫টি স্থানের নাম—
জিন্দা পার্ক
যান্ত্রিক কোলাহল থেকে দূরে, সবুজে ঘেরা শান্ত পরিবেশে সময় কাটাতে চাইলে পরিবারসহ ঘুরে যেতে পারেন জিন্দা পার্কে। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অবস্থিত এই পার্কটি গড়ে ওঠেছে একটি অনন্য বিনোদনকেন্দ্র। বিস্তীর্ণ এলাজুড়ে ছড়িয়ে থাকা গাছপালা, দৃষ্টিনন্দন জলাশয়, ছোট ছোট কাঠের সেতু এবং নান্দনিক স্থাপত্যে নির্মিত একটি পাঠাগার—সব মিলিয়ে জায়গাটি প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ।
পরিবার নিয়ে পিকনিক করা কিংবা প্রকৃতির মাঝে নিরিবিলি সময় কাটানোর জন্য জিন্দা পার্ক হতে পারে আদর্শ গন্তব্য। এছাড়া মাটির ঘরের আদলে তৈরি এখানকার রেস্তোরাঁয় দেশীয় নানা খাবারের সুব্যবস্থাও দর্শনার্থীদের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করে।

সাফারি পার্ক
প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণীর কাছাকাছি যেতে চাইলে ঘুরে আসতে পারেন গাজীপুর সাফারি পার্কে। গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের ইন্দ্রপুরে অবস্থিত এই পার্কটি বিশাল এলাকা জুড়ে গড়ে উঠেছে। ২০১৩ সালে চালু হয় এই পার্ক।
প্রায় ৪ হাজার ৯০৯ একর জমির মধ্যে ৩ হাজার ৮১৯ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই পার্কটি থাইল্যান্ডের সাফারি ওয়ার্ল্ডের আদলে নির্মিত হয় এটি।
সাধারণ চিড়িয়াখানার তুলনায় এই পার্কের ধারণা সম্পূর্ণ আলাদা। এখানে প্রাণীরা খাঁচায় বন্দি থাকে না; বরং উন্মুক্ত পরিবেশে স্বাধীনভাবে বিচরণ করে। দর্শনার্থীরা সুরক্ষিত যানবাহনে বসে বাঘ, সিংহ, ভাল্লুক, জিরাফসহ নানা বন্যপ্রাণী খুব কাছ থেকে দেখার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারেন। এছাড়াও পার্কের ভেতরে রয়েছে পাখিশালা, প্রজাপতি পার্ক এবং শিশুদের জন্য আলাদা বিনোদন ব্যবস্থা, যা ভ্রমণকে করে তোলে আরও উপভোগ্য।
পানাম সিটি ও সোনারগাঁও
ইতিহাস ও প্রাচীন স্থাপত্যের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে ঘুরে আসতে পারেন সোনারগাঁওয়ের পানাম সিটিতে। ঢাকা থেকে মাত্র ২ থেকে ৩ ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক অঞ্চলটি একসময় বাংলার গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল।
এখানকার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ পানাম সিটি, যেখানে সারি সারি লাল ইটের পুরোনো দালান, সূক্ষ্ম কারুকাজ এবং সরু রাস্তা আপনাকে মুহূর্তেই ফিরিয়ে নিয়ে যাবে শত বছরের পুরোনো জমিদারি আমলে। পানাম সিটির অদূরেই রয়েছে শিল্পাচার্য জয়নুল লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর। সেখানে ঘুরে দেখার সুযোগ আছে বাংলার ঐতিহ্যবাহী লোকজ শিল্পকর্ম ও কারুশিল্পের সমৃদ্ধ সংগ্রহ, যা ভ্রমণ অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করে তোলে।
কেরানীগঞ্জ
ঈদের ছুটিতে পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে স্বল্প দূরত্বে ঘুরতে চাইলে কেরানীগঞ্জ হতে পারে চমৎকার একটি গন্তব্য। রাজধানীর কাছাকাছি হওয়ায় খুব সহজেই এখানকার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে আসা যায়।
কেরানীগঞ্জের জনপ্রিয় ভ্রমণস্থানের মধ্যে অন্যতম ‘সারিঘাট’। আইন্তা ও আড়াকুল—এই দুই গ্রামের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া একটি শান্ত খালের অংশই সারিঘাট নামে পরিচিত। খালের দুই পাড়জুড়ে সারি সারি কড়ইগাছ জায়গাটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
নয়নাভিরাম এই পরিবেশ যেমন প্রশান্তি এনে দেয়, তেমনি রোমাঞ্চপ্রেমীদের জন্য রয়েছে কায়াকিং ও নৌকায় ঘোরার সুযোগ। ফলে প্রকৃতি আর অ্যাডভেঞ্চার—দুটোই একসঙ্গে উপভোগ করা যায় এখানে।
সারিঘাটের পাশাপাশি কেরানীগঞ্জের আরেকটি আকর্ষণ কালীগঙ্গা নদী। নদীর শান্ত ও স্নিগ্ধ সৌন্দর্য উপভোগ করতে যেতে পারেন হজরতপুর এলাকায়, যা মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার দূরে। সেখান থেকে অটোরিকশায় করে সহজেই ঢালিকান্দী, পাড়াগ্রাম কিংবা মধুরচর এলাকায় ঘুরে দেখা সম্ভব।
এছাড়া হজরতপুর ঘাট থেকে কালীগঙ্গা নদীতে নৌভ্রমণেরও ব্যবস্থা রয়েছে। পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে ইঞ্জিনচালিত ট্রলার ভাড়া করে নদীর বুকে ভেসে বেড়িয়ে ঈদের ছুটিকে করে তুলতে পারেন আরও আনন্দময় ও স্মরণীয়।
মিনি কক্সবাজার
এই ঈদে কক্সবাজার যেতে মনে যাচ্ছে? তবে এতো দূর যেতে পারবেন না? তাহলে এবার ঈদে আপনার গন্তব্য হতে পারে মিনি কক্সবাজার।
ঢাকার কাছেই বসে সমুদ্রের মতো বিস্তৃত জলরাশির অনুভূতি পেতে চাইলে ঘুরে আসতে পারেন দোহারের মৈনট ঘাটে। পদ্মা নদীর বিশাল জলরাশি ও দীর্ঘ বালুচরের জন্য জায়গাটি দর্শনার্থীদের কাছে ‘মিনি কক্সবাজার’ নামে পরিচিত।
ঈদের বিকেলে এখানে স্পিডবোট বা ট্রলারে করে পদ্মার বুকে ভেসে বেড়ানো এবং সূর্যাস্ত উপভোগ করা এক অনন্য অভিজ্ঞতা। পাশাপাশি নদীর পাড়ে বসে পদ্মার তাজা ইলিশ ভাজা দিয়ে দুপুরের খাবার উপভোগ করার সুযোগও ভ্রমণটিকে করে তোলে আরও আকর্ষণীয়।
