গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘুড়ি উৎসব | ছবি: স্টার নিউজ
চৈত্রের শেষ বিকাল। নীল আকাশ যেন রঙিন ক্যানভাস—আর সেই ক্যানভাস জুড়ে উড়ছে লাল, নীল, হলুদ, নানা রঙের ঘুড়ি। গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এমনই এক উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয় ‘উড়াল’ নামের ব্যতিক্রমধর্মী ঘুড়ি উৎসবকে ঘিরে।
চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে এই আয়োজন করে স্থাপত্য বিভাগের ২২ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। গ্রাম বাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এ উদ্যোগ বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
উৎসবে অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। বিকাল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মাঠজুড়ে তৈরি হয় প্রাণচাঞ্চল্যপূর্ণ এক পরিবেশ। আকাশজুড়ে উড়তে থাকে বিভিন্ন রঙ, আকার ও নামের ঘুড়ি। যেন শহুরে ক্যাম্পাসে ফিরে আসে গ্রাম বাংলার চিরচেনা আবহ।
শুধু ঘুড়ি উড়ানোতেই সীমাবদ্ধ ছিল না আয়োজন। উৎসবকে ঘিরে বসে পিঠা-পুলির স্টল, পাশাপাশি শিক্ষার্থীরাই বিক্রি করেন বাহারি ঘুড়ি। সব মিলিয়ে এটি পরিণত হয় এক মিলনমেলায়। ব্যস্ত শিক্ষাজীবনের ফাঁকে শিক্ষার্থীরা কাটান আনন্দঘন এক ভিন্নধর্মী বিকাল।
উৎসবে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থী দূর্জয় শুভ বলেন, “এমন একটি উৎসব সত্যিই অন্যরকম অভিজ্ঞতা। অনেক সময় ধরে আকাশের দিকে তাকিয়ে ঘুড়ির খেলা দেখেছি—ভীষণ ভালো লেগেছে। আশা করি, প্রতি বছরই এমন আয়োজন হবে।
আর্কিটেকচার বিভাগের শিক্ষার্থী তনুজা বলেন, ছোট বেলার স্মৃতি আবারও নতুন করে ভার্সিটি লাইফে ফিরে এসেছে। এই ঘুড়ি উৎসবের মাধ্যমে সবার সাথে একটা সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হবে।।
শিক্ষার্থী ফালগুনী ইশরাত আঁখি বলেন, “পড়াশোনার ব্যস্ততায় সবার সঙ্গে সময় কাটানো হয় না। ছোটবেলায় ঘুড়ি উড়িয়েছি, কিন্তু এখন আর সেই সুযোগ হয় না। আজ ঘুড়ি দেখে অনেক ভালো লাগছে।
১৮ ব্যাচের শিক্ষার্থী দেবোরিনা বাঁধন বলেন, “এই ঘুড়ি উৎসবের শুরুটা আমরা করেছিলাম। এখন ২২ ব্যাচ সেটি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ঘুড়ি উড়ানো বাঙালির একটি ঐতিহ্য, যা ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। আমরা সেটি ফিরিয়ে আনতে চাই। এই উৎসব মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সহমর্মিতা তৈরি করে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ডিন ড. মুহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, “শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার চাপ থাকে। এমন আয়োজন তাদের মানসিক প্রশান্তি দেয় এবং পারস্পরিক বন্ধনকে দৃঢ় করে। একই সঙ্গে তারা নিজেদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারে, যা দেশাত্মবোধ জাগ্রত করতে সহায়ক।
স্থাপত্য বিভাগের চেয়ারম্যান তাবহা তাবাচ্ছুম তৃষা বলেন, “ঘুড়ি উড়ানোর এই ঐতিহ্য ধরে রাখতেই আমাদের এই উদ্যোগ। আমরা চাই এটি ধারাবাহিকভাবে চলুক এবং ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে উদযাপিত হোক।
গ্রাম বাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যকে নতুনভাবে তুলে ধরার এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের মনে ছড়িয়ে দেয় আনন্দ, বন্ধন আর সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা—যেন এক বিকেলে ফিরে আসে শৈশবের রঙিন স্মৃতি।